Breaking News
Home / অন্য রাজ্যের খবর / নোট বাতিলের দু’বছর ক্ষুদ্র–মাঝারি শিল্পের দৈন্যদশা অব্যাহত

নোট বাতিলের দু’বছর ক্ষুদ্র–মাঝারি শিল্পের দৈন্যদশা অব্যাহত

নোট বাতিলের দ্বিবর্ষপূর্তি আসন্ন৷ বিজেপি সরকারের অন্যান্য পদক্ষেপের মতো এটিও ব্যর্থ প্রমাণিত৷ কালো টাকা ধরা পড়েনি একটাও৷

৯৯ শতাংশ বাতিল নোটই ফিরে এসেছে৷ নোট বাতিলের হঠাৎ ঘোষণায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন দেশের অগণিত সাধারণ মানুষ৷ সাথে সাথে নগদ লেনদেনে অভ্যস্ত ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র, মাঝারি শিল্পের ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবচেয়ে বেশি৷ নোট বাতিল ও জিএসটির জোড়া ধাক্কায় সেই যে শুয়ে পড়েছিল এই সব শিল্প তারপর আর মাথা তুলতেই পারেনি৷ ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সাথে যুক্ত দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রমিক–কর্মচারী৷ এই সংস্থাগুলির পুঁজি কম৷ নগদ টাকায় নির্ভর৷ ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী পুরনো ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল ঘোষণা করার পর দেশ জুড়ে আচমকা নগদের ঘাটতি দেখা দেয়৷ ভয়ানক কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েন এইসব ক্ষুদ্র ও অতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা৷ সরকারি, আধা সরকারি ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়েই তাঁদের ব্যবসা চলে৷ নগদের অভাবে তাঁদের ব্যবসা কমেছে প্রায় ৭০ শতাংশ৷ বৃদ্ধির হার কমেছে তদনুপাতে (২০–৩০ শতাংশ)৷

এই সব শিল্পে নিযুক্ত অধিকাংশ শ্রমিক তাই কাজের অভাবে হয়েছেন বেকার৷ কিছু শ্রমিক অন্য পেশায় চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন৷ তার স্বাভাবিক পরিণতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে অনাদায়ী ঋণ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ৷

তথ্য জানার অধিকারে করা এক প্রশ্নের উত্তরে জানা গিয়েছে, ২০১৪–’১৫ অর্থবর্ষে ছোট শিল্পে অনাদায়ী ঋণ ছিল ৬৩ হাজার কোটি টাকা৷ মোট ঋণের ৬.৪ শতাংশ৷ ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ সেটাই দাঁড়িয়েছে ৯৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় যা মোট ঋণের ৯.৪ শতাংশ৷ সকলেই জানেন, বড় বড় শিল্পপতিদের হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ বকেয়া থাকলে সরকার তাদের ছাড় দেয়, কিন্তু সামান্য ঋণ বাকি থাকলে সরকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেয়৷

নোট বাতিল ও জিএসটির সাথে এঁটে উঠতে না পারাকেই ক্ষুদ্র শিল্পের এই দুরবস্থার কারণ হিসেবে চিহ্ণিত করেছে খোদ রিজার্ভ ব্যাঙ্ক৷ তারা এও বলেছে, বিশেষত স্বর্ণ ও রত্ন শিল্পে ঠিকা শ্রমিকরা নোট বাতিলের পর থেকে নিয়মিত পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না৷ গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো জিএসটি চালুর ফলে সেই ক্ষুদ্র শিল্প করের আওতায় চলে আসায়, খরচের বহর বেড়েছে আরও৷ ২০১৭–র মার্চে ঋণখেলাপ বৃদ্ধির অঙ্কটা ছিল যেখানে ৮,২৪৯ কোটি টাকা, ২০১৮ সালের মার্চে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬,১১৮ কোটি টাকা৷ অর্থাৎ প্রায় দ্বিগুণ৷

নোট বাতিলের কারণে দেশজোড়া প্রবল ধিক্কার ও সমালোচনার ঝড়ে বিদ্ধ হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রমোদি৷ অথচ দলেরই জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে সেই বহু ধিক্কৃত নোট বাতিলকেই  তাঁর সাফল্য বলে তুলে ধরছে বিজেপি৷

মালিক তোষণ, একের পর এক দুর্নীতিতে ডুবতে ডুবতে ভোটসর্বস্ব পুঁজিপতিদের দলগুলির স্বাভাবিক পরিণতি জনবিচ্ছিন্ন হওয়া– আবারও তা স্পষ্ট হচ্ছে৷

(৭১ বর্ষ ৯ সংখ্যা ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮)