Home / খবর / নবজাগরণের পথিকৃৎ বিদ্যাসাগর (১৬) — বস্তুনিষ্ঠ যুক্তিবাদ ও বিদ্যাসাগর

নবজাগরণের পথিকৃৎ বিদ্যাসাগর (১৬) — বস্তুনিষ্ঠ যুক্তিবাদ ও বিদ্যাসাগর

নবজাগরণের পথিকৃৎ বিদ্যাসাগর

ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বি–শত জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই মহান মানবতাবাদীর জীবন ও সংগ্রাম পাঠকদের কাছে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হচ্ছে৷

(১৬)

বস্তুনিষ্ঠ যুক্তিবাদ ও বিদ্যাসাগর

বিদ্যাসাগর যে সময়ে সংস্কৃত কলেজের ছাত্র ছিলেন তখন কলকাতা শহর জুড়ে নবজাগরণের ঢেউ উঠে গিয়েছে৷ ১৮১৭ সালে ডেভিড হেয়ারের উদ্যোগে এবং রামমোহন রায়ের সহায়তায় হিন্দু কলেজ (বর্তমানে প্রেসিডেন্সি কলেজ) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে৷ রামমোহনের সংস্কার আন্দোলন সমাজে তীব্র আলোড়নের সৃষ্টি করেছে৷ হিন্দু কলেজের শিক্ষক ভিভিয়ান ডিরোজিও–র নেতৃত্বে শুরু হয়েছে ‘ইয়ং বেঙ্গল’ আন্দোলন৷ ১৮৩৯–এ রামমোহন প্রবর্তিত ভাবধারা প্রচারের উদ্দেশ্যে তত্ত্ববোধিনী সভা প্রতিষ্ঠা করেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর৷ রামমোহন এবং ডিরোজিওর বিশিষ্ট অনুগামী ও শিষ্যদের অনেকেই এই প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন৷ অক্ষয়কুমার দত্ত তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা সম্পাদনা করতেন৷ বিদ্যাসাগরের অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য অক্ষয় দত্ত বিশেষ অনুরোধ করে তাঁকে এই পত্রিকার লেখা–নির্বাচন কমিটিতে থাকতে বলেছিলেন৷ ফলে, বাঙালি শিক্ষিত সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি যুক্তিবাদের দিকে আকৃষ্ট করার কাজে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রচুর সাহায্য করেছিল৷

ছাত্রাবস্থা থেকেই বিদ্যাসাগরের কঠোর জীবনসংগ্রাম, অসাধারণ ধীশক্তি, পরিশ্রম করার বিপুল ক্ষমতা, সমাজের অবহেলিত–নিপীড়িত মানুষের প্রতি গভীর ভালবাসা, সত্যনিষ্ঠা, প্রবল আত্মমর্যাদাবোধ, স্বদেশপ্রেম, ভারতীয় সমাজ এবং শাস্ত্রে গভীর জ্ঞান তাঁর চরিত্রের মজবুত ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল৷ এই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়েই তিনি ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের মাধ্যমে পাশ্চাত্যের উন্নত জ্ঞান–বিজ্ঞান তথা ইউরোপীয় নবজাগরণের চিন্তাকে আয়ত্ত করেছিলেন৷ এই দুইয়ের সমন্বয়ই বিদ্যাসাগরকে সেই সময়ে সমাজ জুড়ে ছেয়ে থাকা অধ্যাত্মবাদ ও ধর্মীয় তমসাচ্ছন্ন চিন্তার শৃঙ্খলকে ছিন্ন করে সেকুলার মানবতাবাদের বার্তাকে উচ্চকণ্ঠে প্রচার করতে সাহায্য করেছিল৷ রামমোহন বেদান্তের শ্রেষ্ঠত্বকে স্বীকার করে, তার ভিত্তিতেই ধর্মসংস্কার করতে চেষ্টা করেছেন, ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিকে বাদ দেননি৷ বিদ্যাসাগর চিন্তাক্ষেত্রে এই জায়গায় ছেদ ঘটালেন৷ তিনি বললেন, ‘সাংখ্য ও বেদান্ত দর্শন হিসাবে ভ্রান্ত’৷ এইখানেই রেনেসাঁসের চিন্তার পরিমণ্ডলের মধ্যে একটা গুণগত পরিবর্তন আনলেন বিদ্যাসাগর৷ সেটি সেকুলার তথা ধর্মীয় প্রভাবমুক্ত পার্থিব মানবতাবাদ৷ এই চিন্তার মূল কথা– অন্ধ কুসংস্কার নয়, ধর্মীয় কূপমণ্ডুকতা নয়, এর হাত থেকে মানুষকে মুক্ত করার, যা কিছু যুক্তিভিত্তিক একমাত্র তাকেই গ্রহণ করার, জীবনে বিজ্ঞানকে গ্রহণ করার অঙ্গীকার৷ হাজার হাজার বছর ধরে কোনও একটা বিষয়কে সত্য হিসাবে জেনে এসেছি বলেই তাকে সত্য হিসাবে গ্রহণ করতে হবে, এটা নয়৷ পরীক্ষা–নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে সেই সত্যকেও প্রমাণিত হতে হবে এবং তারপরই তাকে জীবনে গ্রহণ করতে হবে৷ এর ভিত্তিতেই এসেছে সাম্য–মৈত্রী–স্বাধীনতার চিন্তা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও নারীস্বাধীনতার ভাবনা–ধারণা৷ আগে ভাবা হত, মানুষের মনন ও বুদ্ধি অতিপ্রাকৃত অলৌকিক শক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত৷ এই ভাবনার মূলে কুঠারাঘাত করে নবজাগরণের চিন্তা বলল, অতিপ্রাকৃত শক্তি মানুষের বুদ্ধির জনক, এই ধারণা ভুল৷ মানুষের বুদ্ধিকে স্বাধীন করো৷ মনন ও বুদ্ধিকে অতিপ্রাকৃত সত্তার অধীনতা থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যেই ব্যক্তিস্বাধীনতা, নারীস্বাধীনতার স্লোগান উঠল৷ 

নবজাগরণের এই বলিষ্ঠ রূপটিকে ভিত্তি হিসাবে নিয়েই বিদ্যাসাগর সমাজ জুড়ে বিচারহীন বিশ্বাস, মান্ধাতা আমলের কুসংস্কার প্রভৃতি যা কিছু সমাজ অগ্রগতির পথে অনড় বাধা হিসাবে দাঁড়িয়েছিল সেই সব কিছুর বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন৷ নবজাগরণের এই উন্নত চেতনাকে দেশের মানুষের মধ্যে বিজ্ঞান ও যুক্তিভিত্তিক আধুনিক শিক্ষার প্রসারে মধ্য দিয়ে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন তিনি৷

বিদ্যাসাগরের শিক্ষাচিন্তার ছত্রে ছত্রে বিজ্ঞানমনস্কতার প্রভাব স্পষ্ট হয়ে রয়েছে৷ এই মন থেকেই তিনি পাশ্চাত্য বিজ্ঞানের নানা বিষয়কে–গণিত, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন বিদ্যা, ভূবিজ্ঞান, উদ্ভিদবিদ্যা, প্রাণীবিজ্ঞান, শারীরবিজ্ঞান, কৃষিবিজ্ঞান ইত্যাদি সহজ–সরল করে তুলে ধরার জন্য ‘বোধোদয়’ রচনা করেছিলেন৷ ছাত্রছাত্রীদের পাঠ্যতালিকায় বিজ্ঞানকে আবশ্যিক পাঠ্য হিসাবে যুক্ত করার সুপারিশ করেছিলেন৷ বিজ্ঞানের প্রতি সাধারণের আগ্রহ বাড়ানোর উদ্দেশে বিশ্বের বিশিষ্ট বিজ্ঞানীদের কষ্টবহুল জীবনসংগ্রাম তুলে ধরতে ‘চরিতাবলী’ এবং ‘জীবনচরিত’ নামে দুটি বই লিখে প্রচার করেন৷ দুরূহ ইংরেজি শব্দের প্রতিশব্দ রচনায় নিজেই ব্রতী হয়েছেন সকলের আগে৷ অতল অনুসন্ধানই বিদ্যাসাগরকে করে তুলেছে বিজ্ঞানপ্রেমিক ও বিজ্ঞানমনস্ক৷ ১৮৫১ সালের শুরুতে বিদ্যাসাগর সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষের পদে আসীন হওয়ার পরই কলেজের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতির উদ্দেশ্যে ‘নোটস অন সংস্কৃত কলেজ’ নামে একটি রচনা শিক্ষাবিভাগের অধিকর্তাদের কাছে পাঠান৷ তাতে অন্য অনেক পরিকল্পনার পাশাপাশি তিনি কলেজে সংসৃক্তে গণিত পড়ানোর বিরোধিতা করেন৷ বলেন, সংস্কৃত–গণিত ছাত্রদের পড়ানোর কোনও সার্থকতা নেই৷ কারণ এতে ছাত্রদের প্রচুর সময় ও শ্রম অপব্যয় হয়৷ তিনি বলেন, সংস্কৃতের বদলে ইংরেজিতে গণিতবিদ্যার শিক্ষা দেওয়া উচিত৷ কারণ তাতে ছাত্ররা অর্ধেক সময়ে দ্বিগুণ শিখতে পারবে৷

শিক্ষার প্রসার ও সমাজ সংস্কারের কাজে নেমে বিদ্যাসাগর বুঝেছিলেন, সমাজে অনড় হয়ে থাকা অন্ধতা, কুসংস্কারাচ্ছন্নতা, প্রাচীনপন্থা ইত্যাদি মানুষের মনে কী মারাত্মক প্রভাব বিস্তার করে রেখেছে৷ ‘জীবনচরিত’ বইতে কোপার্নিকাসকে নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘‘পূর্বকালীন লোকেরা বিচারের সময় চিরাগত কতিপয় নির্ধারিত নিয়মের অনুবর্তী হইয়া চলিতেন, সুতরাং স্বয়ং তত্ত্বনির্ণয় করিতে পারিতেন না, এবং অন্যে সুস্পষ্ট রূপে বুঝাইয়া দিলেও, তাহা স্বীকার করিয়া লইতেন না৷ তৎকালীন লোকদিগের এই রীতি ছিল, পূর্বাচার্যেরা যাহা নির্দেশ করিয়া গিয়াছিলেন, কোনও বিষয়, তাহার বিরুদ্ধতা বা বিরুদ্ধবৎ আভাসমান হইলে, তাঁহারা শুনিতে চাহিতেন না৷’’ সংস্কৃত কলেজ সম্পর্কে ব্যালেন্টাইনের রিপোর্ট নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘আমার মনে হয় প্রগতিশীল ইউরোপীয় বিজ্ঞানের তত্ত্ব ও তথ্য ভারতীয় পণ্ডিতদের কাছে সমাদরযোগ্য করা রীতিমতো কঠিন৷ তাঁদের কুসংস্কারগুলি বহুকালের সঞ্চিত ও দৃঢ়মূল৷ সেগুলি নির্মূল করা সহজ ব্যাপার নয়৷ কোনও নতুন তত্ত্ব, এমনকি তাঁদের নিজেদের শাস্ত্রে যে তত্ত্বের বীজ আছে তারই বর্ধিত রূপ যদি তাঁদের গোচরে আনা যায়, তাও তাঁরা গ্রাহ্য করবেন না৷’ এই পশ্চাদপদতা, এই কূপমণ্ডুকতার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াই শুরু করেছিলেন বিদ্যাসাগর৷ ১৮৫১ সালে ‘বোধোদয়’ বইতে বিদ্যাসাগর লেখেন, ‘‘ইন্দ্রিয় জ্ঞানের দ্বার স্বরূপ, অর্থাৎ ইন্দ্রিয় দ্বারা সর্ব্বপ্রকার জ্ঞান জন্মে৷ ইন্দ্রিয় না থাকিলে আমরা কোন বিষয়ে কিছু মাত্র জানিতে পারিতাম না৷ …ইন্দ্রিয়বিহীন হইলে, আমরা সকল বিষয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞান থাকিতাম৷ …ইন্দ্রিয়ের বিনিয়োগ দ্বারা অভিজ্ঞতা লাভ হয়৷ অভিজ্ঞতা লাভ হইলে, ভাল–মন্দ, হিত–হিত বিবেচনার শক্তি জন্মে৷’’ বিশ্বাসনির্ভর অধ্যাত্মবাদী চিন্তার বিপরীতে এভাবেই বিজ্ঞানভিত্তিক যুক্তিবাদী শিক্ষা দেশের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন তিনি৷

এই সুকঠিন জ্ঞানসাধনার উদ্দেশ্য তাঁর কাছে ছিল একটাই– মানুষের চেতনাকে অন্ধবিশ্বাসের এঁদোগলি থেকে যুক্তিবিচারের বাঁধানো পথে নিয়ে আসা৷ এজন্য বিজ্ঞানবিষয়ক বইয়ের প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল৷ নিজের লেখা বইপত্রেও এই বিষয়ে তিনি নানা আলোচনা করেছেন৷ অঙ্ক, পদার্থ এবং রসায়ন বিদ্যা, প্রাণীবিদ্যা, ভূগোল, উদ্ভিদবিদ্যা, শরীরতত্ত্ব, কৃষিবিদ্যা ইত্যাদি বিষয়ক আলোচনাকে সুখপাঠ্য বাংলা ভাষায় লিখেছেন বিদ্যাসাগর৷ অন্যদের এইসব বিষয়ে লেখার জন্য প্রচুর সাহায্য করেছেন৷ বিজ্ঞানের বহু বাংলা প্রতিশব্দ, যা আজও ব্যবহূত হয় সেগুলি বিদ্যাসাগরেরই করা৷ গ্যালিলিওর পর্যবেক্ষণ এবং তত্ত্ব সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি সেই সময় লিখেছেন, ‘‘এই নিয়মের জ্ঞান দ্বারা জ্যোতির্বিদ্যার মহীয়সী শ্রীবৃদ্ধি হইয়াছে৷’’ লক্ষণীয়, বিদ্যাসাগর প্রচলিত ‘জ্যোতিষশাস্ত্র’ শব্দটি ব্যবহার না করে ‘জ্যোতির্বিদ্যা’ শব্দটি প্রয়োগ করেছেন৷ ‘জীবনচরিত’ বইতে একবাক্যে ‘কুসংস্কার’–এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে– ‘‘সমুচিত বিবেচনা না করিয়া যে সিদ্ধান্ত করা হয়৷’’

হিন্দু ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মেও বিদ্যাসাগর সাংখ্য–বেদান্তকে ভ্রান্ত দর্শন বলেন, ব্রাহ্মণ ছাড়া বাকিদের জন্যও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দ্বার খুলে দেন, ইংরাজি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেন– কঠোর ধর্মীয় রক্ষণশীলতার সেই প্রবল দাপটের যুগে এইসব কর্মসূচি গ্রহণ করা কতটা কঠিন ছিল, আজকে তা ঠিকভাবে বোঝাও দুষ্কর৷

সংস্কৃত কলেজের ছাত্র এবং শিক্ষকদের জন্য মাঝেমধ্যেই তিনি প্রচুর বইপত্র আনাতেন৷ এমনকি ইংল্যান্ড থেকেও অসংখ্য বইপত্র আনাতেন৷ সেইসব বইয়ের তালিকা দেখলে চমকে উঠতে হয়৷ বিজ্ঞান এবং বিজ্ঞানবিষয়ক আলোচনা–সমালোচনার কত রকমের বই রয়েছে সেই তালিকায়৷ সাহিত্য, দর্শন, ইতিহাস, অর্থনীতি, অঙ্কশাস্ত্র, পদার্থবিদ্যা, রসায়নশাস্ত্র, শিক্ষাতত্ত্ব, মনস্তত্ত্ব, চিকিৎসাবিদ্যা ইত্যাদি সহ জ্ঞানজগতের প্রায় সমস্ত শাখার বাছাই করা বইপত্র তিনি আনাতেন৷ সেগুলি ছাত্রদের, বিশেষত শিক্ষকদের পড়াবার ব্যবস্থা করতেন৷ বিদ্যাসাগর বলতেন, ‘প্রয়োজনীয় বহুবিধ তথ্যে যথেষ্ট জ্ঞান, দেশের কুসংস্কারের কবল থেকে মুক্তি– শিক্ষকদের এই গুণগুলি থাকা চাই৷’ এত শত–সহস্র বইপত্রের শুধু খোঁজই রাখতেন না তিনি, বরং সেগুলি পড়ে তার নির্যাস নানা সময়ে আলোচনা করতেন, সহজ–সরল ভাষায় অনুবাদ করে অন্যদের পড়তে দিতেন৷ এছাড়া ছিল তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহ৷ কুড়ি হাজারেরও বেশি বই তাঁর সংগ্রহে ছিল৷ সমাজসংস্কারের অজস্র কাজে প্রভূত ব্যস্ততার মাঝেও খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দাগ দিয়ে দিয়ে বইপত্র পড়তেন তিনি৷

বিদ্যাসাগর সে যুগের এমনই এক বিরল ব্যক্তিত্ব৷ এদেশে সামন্ততন্ত্রের মৃত্যুকালে, যখন ধর্মীয় গোঁড়ামি, অন্ধতা, কুসংস্কার জনজীবনকে পিষে মারছে, সেই ঝড়ঝঞ্ঝাময় সময়ে বিদ্যাসাগরের অভ্যুদয়৷ অতীতের অভিজ্ঞতা নিয়ে, তাঁর যুগের উন্নততর জ্ঞানভাণ্ডারকে আত্মস্থ করার মধ্য দিয়ে, বিচার–বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এদেশের সমাজ সম্পর্কে তিনি যা করণীয় হিসাবে মনে করেছেন, তা যেমন করেছেন, তেমনই যা সত্য বলে বুঝেছেন, তা প্রতিষ্ঠার জন্য আপসহীন সংগ্রাম করেছেন আজীবন৷ আর চলার পথে ছড়িয়ে দিয়ে গেছেন বস্তুবাদী যুক্তিনিষ্ঠায় উজ্জ্বল তাঁর প্রতিভাময় ব্যক্তিত্বের বিচ্ছুরণ৷(চলবে)  

(গণদাবী : ৭২ বর্ষ ১৪ সংখ্যা)