Home / খবর / নবজাগরণের পথিকৃৎ বিদ্যাসাগর (১৫) — আত্মমর্যাদাবোধ ও বিদ্যাসাগর

নবজাগরণের পথিকৃৎ বিদ্যাসাগর (১৫) — আত্মমর্যাদাবোধ ও বিদ্যাসাগর

নবজাগরণের পথিকৃৎ বিদ্যাসাগর

ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বি–শত জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই মহান মানবতাবাদীর জীবন ও সংগ্রাম পাঠকদের কাছে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হচ্ছে৷

(১৫)

 আত্মমর্যাদাবোধ ও বিদ্যাসাগর

নজরুলের কবিতায় আছে, ‘‘বল বীর, বল উন্নত মম শির’’৷ এই কবিতার বিখ্যাত পঙক্তিগুলি প্রায় সকলেরই জানা৷ অনেকটা প্রবাদের মতো হয়ে গেছে, ‘ভূলোক দ্যুলোক গোলোক ভেদিয়া, খোদার আসন আরশ ছেদিয়া, উঠিয়াছি চির বিস্ময় আমি বিশ্ববিধাত্রীর৷’ সামন্তী চিন্তার নিগড় ভেঙে মাথা তুলে দাঁড়ানো এই মানুষ নিছক ব্যক্তি নয়,  মনুষ্যত্বের গুণাবলিতে সমৃদ্ধ ব্যক্তি৷

ইউরোপের রেনেসাঁস বা নবজাগরণ আন্দোলনের তাৎপর্য উল্লেখ করতে গিয়ে ‘ডায়ালেকটিক্স অফ নেচার’ গ্রন্থের ভূমিকায় এঙ্গেলস অনবদ্য ভাষায় বলেছেন,‘‘It was the greatest progressive revolution that mankind has so far experienced, a time which called for giants and produced giants– giants in power of thought, passion and character in universality and learning.’’ অর্থাৎ, নবজাগরণ আন্দোলন চিন্তা–চরিত্র–আবেগ ও জ্ঞানচর্চায় অসংখ্য অনন্য প্রতিভাধর ব্যক্তিত্ব তৈরি করেছে৷ আমাদের দেশের নবজাগরণ আন্দোলনও সমস্ত দিক থেকে তেমনই বিরাট মাপের মানুষ হিসাবে বিদ্যাসাগরের জন্ম দিয়েছে৷

ব্যক্তির আত্মমর্যাদাবোধ বলতে কী বোঝায়? এর অর্থ হল, জীবনে কোনও পরিস্থিতিতেই অন্যায় বা অসত্য আচরণ না করা এবং অন্য যে–কেউ এধরনের আচরণ করলে তার প্রতিবাদ করা৷ অন্যায় বা অসত্য আচরণ মানুষ করে নানা প্রলোভনে কিংবা ক্ষতি বা লোকসানের ভয় থেকে৷ আত্মমর্যাদাবোধসম্প ব্যক্তিদের এই ভয় থাকে না৷ তাই তাঁরা হন সবসময়ই নির্ভীক৷ বিদ্যাসাগর ছিলেন এই ধরনের এক নির্ভীক মানুষ৷ সে কারণেই তিনি উদ্ধত সাহেবের সামনে চটিপরা পা টেবিলে তুলতে পেরেছিলেন এবং তাকে উপযুক্ত শিক্ষা দিতে পেরেছিলেন৷

আজ যখন পরিস্থিতির চাপের অজুহাতে অন্যায়ের সঙ্গে আপস করাটাকেই বাস্তববাদিতা বলে চালানো হচ্ছে, ব্যক্তিগত লাভ কিংবা একটু স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য ক্ষমতাবানদের কাছে আত্মমর্যাদা বিসর্জন দেওয়াটা যেন স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে, সেই সময় বিদ্যাসাগরের চরিত্র আমাদের সামনে এক সুমহান এবং অমূল্য শিক্ষামালার মতো উপস্থিত হয়েছে৷

বর্ধমানের মহারাজা বিদ্যাসাগরের দানশীলতা এবং অন্যান্য সমাজগঠনমূলক কাজকর্মের কথা শুনে খুবই প্রভাবিত হয়েছিলেন৷ একবার তাঁকে নিজের বাড়িতে আমন্ত্রণ করেছিলেন৷ চলে যাওয়ার সময় রাজবাড়ির রীতি অনুযায়ী ব্রাহ্মণবিদায় হিসাবে তিনি বিদ্যাসাগরকে নগদ ৫০০ টাকা এবং একজোড়া দামী শাল উপহার দিতে গেলেন৷ কিন্তু বিদ্যাসাগর কিছুই নিতে রাজি হলেন না৷ মহারাজাকে তিনি বললেন, ‘আমি দান গ্রহণ করি না৷ কারণ, আমি চাকরি করে যা মাইনে পাই তাতে আমার চলে যায়৷ আর কী দরকার’

অনেক টাকা রোজগার করতেন বলে কখনও নিজের বা পরিবারের জন্য ন্যূনতমের বেশি ব্যয় করেননি৷ বরং অন্যদের দিয়েছেন অকাতরে৷ নিজের জন্য সামান্য ধুতি–চাদর ছাড়া আর কোনও চাহিদা ছিল না তাঁর৷ এর বেশি নিতে তাঁর বিবেকে বাধত৷ বর্ধমানের মহারাজা আরেকবার বিদ্যাসাগরকে বীরসিংহ গ্রাম এবং তার সংলগ্ন এলাকা ‘তালুক’ হিসাবে দান করতে চাইলেন এবং বিদ্যাসাগর যেন অবশ্যই গ্রহণ করেন, এমন আবেদন জানালেন৷ বিদ্যাসাগর তখন তাঁকে বললেন, ‘‘আমার যখন এমন অবস্থা হবে যে, সমস্ত প্রজার খাজনা আমি নিজে দিতে পারব, তখন আপনার তালুক গ্রহণ করব৷’’ বলা বাহুল্য, বিদ্যাসাগর বলতে চেয়েছেন, একা ভোগ করতে চাই না৷ অগণিত মানুষ অনাহারে–অর্ধাহারে দিন কাটাবে আর আমি একা বিলাস করব, এ হয় না৷ এমনই বিরল আত্মমর্যাদাবোধের অধিকারী ছিলেন তিনি৷

এই আত্মমর্যাদাবোধ কোনও মিথ্যা অহংকারের জন্ম দেয় না৷ ধর্ম–বর্ণ–জাতপাতে ভিত্তিতে কাউকে ছোট মনে করতে শেখায় না৷ কায়িক শ্রমকে অসম্মানের মনে করতে শেখায় না৷ তাই বিদ্যাসাগর পদমর্যাদায় উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত থাকলেও অনায়াসে মিশে যেতে পারতেন জাত–ধর্ম–বর্ণ নির্বিশেষে দরিদ্র মানুষের মধ্যে৷ অনায়াসে হয়ে উঠতে পারতেন তাদের একান্ত আপনজন৷ একদিন মহারাজা যতীন্দ্রমোহন ঠাকুর ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে কোথাও যাচ্ছিলেন৷ পথে দেখলেন, বিদ্যাসাগর এক মুদি দোকানের সামনে রাস্তায় বসে তামাক খাচ্ছেন, আর গল্প করছেন৷ পরে দেখা হলে বিদ্যাসাগরকে সমালোচনাচ্ছলে তিনি বলেন, ‘আপনি এইসব লোকেদের সঙ্গে মেশেন কেন?’ উত্তরে বিদ্যাসাগরের উক্তি বিখ্যাত হয়ে আছে৷ তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, ‘দ্যাখো, ওদের নিয়েই আমাদের ঘরকন্না, … রাজা–মহারাজাদের নিয়ে তো আমাদের ঘরকন্না নয়৷ … তোমাদের ছাড়তে পারি, কিন্তু ওদের ছাড়তে পারি না৷’

মিথ্যা অহংবোধের বিরোধী ছিলেন বিদ্যাসাগর৷ এ বিষয়ে যাকে যেভাবে সতর্ক করা সম্ভব, সেটা করতেন তিনি৷ একবার রাতে কলকাতা থেকে বীরসিংহে ফিরছেন তিনি৷ পরদিন সকালে গ্রামে একটা অনুষ্ঠান আছে৷ রাতে রেল স্টেশনে নেমেছেন৷ দেখলেন এক হ্যাট–কোট পরা বাবু কুলির খোঁজ করছেন এবং সাধারণ ধুতি–চাদর পরা বিদ্যাসাগরকেই কুলি ঠাউরে হাঁকাহাঁকি শুরু করলেন৷ বিদ্যাসাগর কিচ্ছু না বলে এগিয়ে গেলেন৷ দেখলেন বাবুটির সাথে রয়েছে একটিমাত্র সুটকেস৷ তিনি সুটকেসটি নিয়ে পিছু পিছু চললেন৷ যেতে যেতে শুনলেন বাবুটি এখানে এসেছে বিদ্যাসাগরকে নিজে দেখতে৷ পরদিন সকালের সেই অনুষ্ঠানে বিদ্যাসাগরের পরিচয় পেয়ে বাবুটি অত্যন্ত লজ্জিত হয়ে ক্ষমা চাইল৷ বিদ্যাসাগর তাকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, ‘মোট বইলে মান কমে না৷ বরং নিজের কাজ নিজে করলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে৷’ এ জিনিস বিদ্যাসাগর নিজে সর্বক্ষণ চর্চা করতেন৷ একবার বীরসিংহ গ্রামে স্কুল করার জন্য নিজেই কোদাল নিয়ে আগাছা সাফ করে জমি তৈরি করেছিলেন তিনি৷ এভাবে প্রয়োজনীয় কাজের প্রতি জীবনে কখনও তাঁর অনীহা জন্মায়নি৷

টেবিলে পা তুলে এক ইংরেজ সাহেবের উদ্ধত আচরণের জবাবে বিদ্যাসাগরের তেজোদীপ্ত আচরণ কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছে৷ এ ইতিহাস বহুল প্রচলিত৷ কোথা থেকে আসে এই তেজ? এই দৃঢ়তা–নির্ভীকতা আসে সত্যের অমোঘ শক্তি থেকে৷ এই তেজ আসে সমাজের নিপীড়িত মানুষের জন্য কিছু করার আপ্রাণ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে৷ এই তেজ হল সত্যনিষ্ঠার তেজ৷

সেকালের বহু ইংরেজি শিক্ষিত লোক ইংরেজভক্ত হয়ে গর্ব বোধ করত৷ দেশের মানুষকে তুচ্ছ–তাচ্ছিল্য করত৷ ইংরেজ কর্তাদের দেওয়া উপাধি–খেতাবের জন্য লালায়িত হত৷ বিদ্যাসাগর এই হীনতা–নীচতার শুধু বিপরীত ছিলেন তাই নয়, এসব মেরুদণ্ডহীনতাকে তীব্র ধিক্কার জানাতেন৷ কোনও উপাধি–খেতাবের পরোয়া করতেন না তিনি৷ ১৮৮০ সালে সরকার তাঁকে যেচে সিআইই (‘কম্প্যানিয়ন অফ ইন্ডিয়ান এম্পায়ার’ অর্থাৎ ভারত সাম্রাজ্যে ব্রিটিশ শাসকদের সাথী) উপাধি দিয়েছিল৷ কিন্তু ওই উপাধি পাওয়ার কথা আগে জানতে পেরে তিনি কলকাতার বাইরে চলে যান, যাতে ওই ঘৃণ্য পদক নিতে না হয়৷ কিছুদিন পর তিনি কলকাতায় ফিরে এলে কর্মচারী ও চাপরাশি দিয়ে তাঁর বাড়িতে পদক পাঠিয়ে দেওয়া হয়৷ কিছু বকশিসের আশায় কর্মচারীদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বিদ্যাসাগর বললেন, ‘আমি একটা কথা বলি, তাতে আমারও সুবিধে, তোমাদেরও সুবিধে৷ এই পদকখানা নিয়ে বাজারে কোনও বেনের দোকানে বেচে দাও৷ যা পাবে দুজনে ভাগ করে নিও৷’ এই ছিলেন বিদ্যাসাগর৷ তিনি যখন সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে অর্থকষ্টে ভুগছেন তখন তাঁর বন্ধু হ্যালিডে সাহেব তাঁর জন্য হিন্দু কলেজে (এখন প্রেসিডেন্সি) একটি পদ তৈরি করে তাঁকে চাকরি দিতে উদ্যোগী হয়েছিলেন৷ বিদ্যাসাগর সম্মতি দেননি৷ কারণ, তিনি জেনে গিয়েছিলেন, নতুন পদের প্রয়োজন ওখানে নেই৷ কেবল তাঁকে চাকরি দেওয়ার জন্য অমনটা করার কথা ভেবেছেন হ্যালিডে৷ তাঁকে কেউ অনুগ্রহ করবে, এ কখনও মেনে নিতে পারেননি বিদ্যাসাগর৷ তাই, বিধবাবিবাহ আন্দোলনে যখন আর্থিক দিক থেকে তিনি প্রায় নিঃস্ব তখন কয়েকজন মিলে বিদ্যাসাগরকে না জানিয়ে খবরের কাগজে একটা বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন৷ সে বিজ্ঞাপনে বিদ্যাসাগরের জন্য অর্থ সাহায্য প্রার্থনা করা হয়েছিল৷ এ খবর পাওয়া মাত্র বিদ্যাসাগর ওই বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার করতে বলেন৷ তাঁর বক্তব্য ছিল, আমি যা করেছি, আমার বিবেকের ডাকে করেছি৷ সেজন্য অন্য কাউকে দায়ভার নিতে হবে না৷ দেশের মানুষের যদি বিবেক থাকে তাহলে সমাজের স্বার্থে তারা নিজেরাই এগিয়ে আসবে৷

আদর্শগত কারণে বিদ্যাসাগর চাকরিতে ইস্তফা দিয়েছেন একাধিকবার৷ তিনি বলতেন, ‘যেখানে মর্যাদা নেই, কাজ করার স্বাধিকার নেই, এমন জায়গায় আমি কাজ করতে পারব না৷’ সংস্কৃত কলেজের সেক্রেটারি রসময় দত্ত যখন কথা দিয়েও সহকারি সেক্রেটারি হিসাবে বিদ্যাসাগরের পাঠক্রম সংক্রান্ত প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালেন না, তখন প্রতিবাদে বিদ্যাসাগর পদত্যাগ করেছিলেন৷ সেই সময় তাঁর খুবই আর্থিক সংকট চলছিল৷ রসময় দত্ত বিদ্যাসাগরের পরিচিত একজনকে বিদ্যাসাগর সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘চাকুরি যে ছেড়ে দিল, চলবে কী করে?’ সে কথা শুনে বিদ্যাসাগর দৃঢ় কণ্ঠে উত্তর দিয়েছিলেন, ‘বিদ্যাসাগর আলু–পটল বেচে খাবে, মুদির দোকান করে খাবে, কিন্তু যে চাকুরিতে সম্মান নেই, সে চাকুরি করবে না৷’ দেশের মানুষের মধ্যে শিক্ষার প্রসারের জন্য তিনি ব্রিটিশের সাহায্য নিয়েছেন৷ কিন্তু সাহায্য পাওয়ার জন্য ব্রিটিশের কোনও অন্যায়কে রেয়াত করেননি, স্পষ্ট ভাষায় তীব্র সমালোচনা করেছেন৷ পরিণামে অনেকে তাঁকে ভুল বুঝেছেন কিন্তু যাঁরা তাঁকে এতটুকুও বুঝেছেন, তাঁদের কাছে তাঁর কদর ছিল অতুলনীয়৷ আগে থেকে সময় না নিয়ে সে কালের ছোটলাটের সঙ্গে দেখা করতে পারতেন নামমাত্র কয়েকজন৷ সেই কয়েকজনের মধ্যে বিদ্যাসাগর ছিলেন অন্যতম৷ ১৮৭৪ সালে হিন্দি কবি ভারতেন্দু হরিশ্চন্দ্র ও সুরেন্দ্রনাথ নামক এক যুবকের সাথে বিদ্যাসাগর এশিয়াটিক সোসাইটির যাদুঘর দেখতে গিয়েছিলেন৷ সঙ্গী দুজনের কোট–প্যান্ট–বুট পরা ছিল৷ ফলে তারা মূল ফটক দিয়ে ভিতরে ঢুকে গেলেন৷ বিদ্যাসাগরকে দারোয়ান আটকাল৷ কারণ তাঁর পায়ে বুট নেই, চটি৷ দারোয়ান বলল, নিয়মানুসারে চটি খুলে আপনাকে ভিতরে যেতে হবে৷ বিদ্যাসাগর সেভাবে যেতে রাজি হলেন না৷ কারণ, বুট পরে ঢোকা যায় অথচ চটি পরে যায় না– এর মধ্যে রয়েছে ব্রিটিশ শাসকের জাতিদম্ভ৷ নিজেকে বড় আর অপরকে ছোট মনে করার হীন মানসিকতা৷ তিনি বাইরে রাস্তাতেই দাঁড়িয়ে রইলেন সঙ্গীদের ফেরার অপেক্ষায়৷ ইতিমধ্যে সোসাইটির সম্পাদক প্রতাপচন্দ্র ঘোষের কাছে পৌঁছেছে খবরটা৷ তিনি সঙ্গে সঙ্গে ছুটে এসে বিদ্যাসাগরের কাছে ক্ষমা চেয়ে চটি পরেই ভিতরে আসতে অনুরোধ করলেন৷ অন্য যে–কেউ হলে তখন ভিতরে চলে যেতেন৷ কিন্তু বিদ্যাসাগর গেলেন না৷ বরং তাঁদের দেখালেন, আমি উচ্চপদাধিকারী লোক বলে কোনও বিশেষ সুবিধা চাই না৷ যেদিন সকলের জন্য এক নিয়ম চালু হবে সেদিনই ভিতরে যাব৷

বিদ্যাসাগরের জীবনের এই অনন্য সাধারণ ইতিহাস আমাদের শেখায়, যথার্থ আত্মমর্যাদাবোধ গড়ে ওঠে অগণিত মানুষের কল্যাণের জন্য আপসহীন লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই৷ পার্থিব মানবতাবাদের বলিষ্ঠ প্রতিভূ বিদ্যাসাগর চরিত্র আজও উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা হয়ে নতুন সমাজের পথ দেখায়৷ (চলবে)

(গণদাবী : ৭২ বর্ষ ১৩ সংখ্যা)