Home / খবর / তৃণমূলের সন্ত্রাসের প্রতিবাদে ‘মৈপীঠ সংহতি দিবস’

তৃণমূলের সন্ত্রাসের প্রতিবাদে ‘মৈপীঠ সংহতি দিবস’

তৃণমূলের সন্ত্রাসের প্রতিবাদে ৯ ডিসেম্বর ‘মৈপীঠ সংহতি দিবস’

পালনের ডাক দক্ষিণ ২৪ পরগণায়

এস ইউ সি আই (সি)–র দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলা কমিটি ৯ ডিসেম্বর মৈপীঠ সংহতি দিবস পালনের ডাক দিল৷  মৈপীঠ–বৈকুণ্ঠপুর বরাবরই এস ইউ সি আই (সি)–র শক্ত ঘাঁটি৷ এখানে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে এস ইউ সি আই (সি)–কে হারানোর জন্য তৃণমূল কংগ্রেস এবং সিপিআই(এম) জোট বেঁধে লড়ে৷ তা সত্ত্বেও এস ইউ সি আই (সি) দলের প্রার্থীরা ১১–৮ ব্যবধানে জেতে৷

এরপর পরাজিত তৃণমূল কংগ্রেস অনৈতিক উপায়ে এস ইউ সি আই (সি)–র দু’জন পঞ্চায়েত সদস্যকে ভাঙিয়ে প্রধান পদে জেতে৷ ২০ নভেম্বর পঞ্চায়েতের বিভিন্ন উপসমিতিগুলির নির্বাচন হয়৷ সেইদিন দলের সমস্ত নেতৃস্থানীয় কর্মী পার্টি কংগ্রেসের প্রতিনিধি অধিবেশনের জন্য ঘাটশিলা রওনা হয়ে গেলেও, আঞ্চলিক কর্মীদের সাহসী প্রচেষ্টায় সব ক’টি উপসমিতিতে এস ইউ সি আই (সি)–র জয় হয়৷ এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব, বাইরে থেকে বাইক বাহিনী নিয়ে এসে এলাকার নানা জায়গায় ব্যাপক সন্ত্রাস সৃষ্টি করে৷ এস ইউ সি আই (সি) দলের যুব নেতা কমরেড সুদর্শন মান্নার বাড়ির আশেপাশে ব্যাপক বোমাবাজি এবং গুলি চালায়৷ বিনোদপুরে কমরেড পিন্টু মণ্ডল নামে এক কর্মীকে ব্যাপক মারধর করার পর রাত্রে স্থানীয় শ্মশানে ফেলে দিয়ে যায়৷

২২ নভেম্বর রাত ৯টা নাগাদ এস ইউ সি আই (সি) দলের মহিলা কর্মী কমরেড কবিতা পাত্র তাঁর বৃদ্ধ শ্বশুর–শ্বাশুড়ি সহ যখন শনিবারের বাজারে তাঁদের চায়ের দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন তখন মৈপীঠের তৃণমূলের অঞ্চল প্রধান সহ সাত–আট জন দুষ্কৃতী মুখে কাপড় বেঁধে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে৷ মারতে মারতে তাঁকে রাস্তার পাশে নির্জন জায়গায় টেনে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাঁর জামা–কাপড় ছিঁড়ে দিয়ে তাঁর ওপর বর্বর অত্যাচার চালায় এবং যৌনাঙ্গে লাঠি ঢুকিয়ে দেওয়ায় তিনি সেখানে অজ্ঞান হয়ে যান৷ বেশ কিছুক্ষণ পরে পুলিশ গিয়ে তাঁকে অজ্ঞান এবং বিবস্ত্র অবস্থায় উদ্ধার করে৷ এই ঘটনার পরে পুলিশ সে রাতে এবং দু’দিন পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলেও তাঁকে ভর্তি করেনি বা ঠিকমতো মেডিকেল পরীক্ষা করায়নি৷ বরং তৃণমূল নেতৃত্বের চাপে এটা মামুলি ঘটনা এবং চিটফান্ডের টাকা ফেরতের দাবিতে গ্রাহকরা মারধর করেছে বলে ধামাচাপা দিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে থাকে৷ দোষীদের গ্রেপ্তার এবং কঠোর শাস্তির দাবিতে দলের আঞ্চলিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে থানায় ডেপুটেশন দেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত প্রধান সহ এফআইআর–এ নাম থাকা ৫ জন অপরাধীর কারওকেই গ্রেপ্তার করেনি৷

এর পরে গত ৩০ নভেম্বর ভোররাতে ৭ নং বাজারের কাছে একটি পরিত্যক্ত আটচালায় পরিকল্পিত ভাবে আগুন লাগিয়ে দিয়ে ‘এস ইউ সি আমাদের পার্টি অফিস পুড়িয়ে দিয়েছে’ এই অজুহাতে তৃণমূল বেশ কিছু লোকজন জড় করে এবং দু’জন এস ইউ সি আই (সি) সমর্থককে মারধর করে৷ রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড নন্দ কুণ্ডু, প্রাক্তন বিধায়ক কমরেড জয়কৃষ্ণ হালদার, মহিলা সাংস্কৃতিক সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক কমরেড সুজাতা ব্যানার্জী সহ জেলার একটি প্রতিনিধি দল কবিতা পাত্রের বাড়ি গিয়ে দেখা করলে তিনি বলেন, ঘরে দুই শিশু নিয়ে তিনি একা থাকেন৷ তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা তাঁকে রাত্রে এসে কেস তুলে নেওয়ার জন্য শাসাচ্ছে এবং বাড়ির ভিতরে ঢুকে তাঁকে খাট থেকে ফেলে দিয়ে মারধর করেছে৷ তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমি মরে গেলেও তৃণমূলের সন্ত্রাসের কাছে মাথা নত করব না৷’ এর পরে নেতৃত্বের পক্ষ থেকে মৈপীঠ কোস্টাল থানায় দোষীদের গ্রেপ্তার ও কবিতা পাত্রের নিরাপত্তার দাবি জানান৷

গত ৩০ নভেম্বর মেডিকেল সার্ভিস সেন্টার–এর ডাঃ নীলরতন নাইয়া, সিস্টার ভাস্বতী মুখার্জী, সি পি ডি আর এস–এর অধ্যাপক গৌরাঙ্গ দেবনাথ, নারী নিগ্রহ বিরোধী কমিটির কল্পনা দত্ত সহ এক প্রতিনিধি দল গুরুতর আহত এবং অসুস্থ কবিতা পাত্রের সঙ্গে দেখা করেন এবং পরে থানার ওসি–র সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিগৃহীতার যথাযথ মেডিকেল পরীক্ষা এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানান৷

(গণদাবী : ৭১ বর্ষ ১৭ সংখ্যা)