Breaking News
Home / খবর / ‘গো ব্যাক মোদি’ ধ্বনিতে কাঁপল কলকাতা থেকে জেলা

‘গো ব্যাক মোদি’ ধ্বনিতে কাঁপল কলকাতা থেকে জেলা

১১ জানুয়ারি, বহুদিন পর কলকাতা তথা বাংলার সেই প্রায় হারাতে বসা প্রতিবাদী রূপ দেখল সারা ভারত– যে প্রতিবাদের জোয়ারে ভেসে গিয়েছিল লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গের ‘সেটেলড ফ্যাক্ট’, যে আন্দোলন আন–সেটেলড করেছিল ইংরেজের বিভাজনের শয়তানিকে৷ নৃশংস অত্যাচার সত্ত্বেও যে গণপ্রতিরোধে সিঙ্গুর–নন্দীগ্রাম থেকে টাটা–সালেমদের রক্তলোলুপ থাবা গুটিয়ে নিতে হয়েছে৷ এস ইউ সি আই (সি)–র নেতৃত্বে যে গণআন্দোলনে প্রাথমিকে ইংরেজি ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে শাসকরা৷

মালদা
নদীয়া

১১ জানুয়ারিতে আবার দেখা গেল, দেশের মানুষের উপর সাম্প্রদায়িক বিভাজনের নীতি এনআরসি–সিএএ–এনপিআ চাপিয়ে দেওয়ার প্রধান কারিগর নরেন্দ্র মোদিকে চায় না কলকাতা, চায় না বাংলা৷ সে কথাই মানুষ সোচ্চারে জানিয়ে দিল প্রতিবাদের গর্জনে৷ উঠল স্লোগান গো–ব্যাক নরেন্দ্র মোদি৷ কুশপুতুলে আগুন দিয়ে মানুষ সোচ্চারে বলল, ফ্যাসিস্ট মোদি ফিরে যাও৷

শিলিগুড়ি

মোদির বিমান কলকাতার মাটি ছোঁয়ার কথা ছিল তিনটে নাগাদ৷ কিন্তু বেলা আড়াইটাতেই কলকাতার এসপ্ল্যানেড অবরুদ্ধ৷ এস ইউ সি আই (কমিউনিস্ট)–এর শয়ে শয়ে কর্মী–সমর্থকের হাতে ব্যানার ‘ক্ষুদিরামদের বাংলায় নাথুরামদের ঠাঁই নেই’৷ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের হাত তুলে ধরেছে কালো পতাকা, তাতে স্পষ্ট ঘোষণা– নরেন্দ্র মোদি ফিরে যাও৷ সন্তানের হাত ধরে এসেছেন মা৷ তাঁর গলার সাথে মিলে যাচ্ছে কিশোর কণ্ঠের স্লোগান৷ সেই ছিদ্রান্বেষীরা– যারা বারবার ছাত্ররা কেন প্রতিবাদের অঙ্গনে আসবে, এই নিয়ে নাকে কান্না কাঁদে, মানুষের অধিকার, মনুষ্যত্বকে বাঁচানোর এই মিছিলের সামনে তারা আজ কোথায় বিশাল পুলিশ বাহিনী রাজভবনের দিকে গড়ে তুলেছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়৷ তাকে উপেক্ষা করেই মিছিল দখল নিল গোটা রাস্তার৷ এসপ্ল্যানেড–লেনিন সরণির মোড় অবরোধ করে চলল প্রতিবাদের ঝড়৷ নরেন্দ্র মোদির কুশপুতুলে অগ্নিসংযোগ করলেন এস ইউ সি আই (কমিউনিস্ট)–এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড অমিতাভ চ্যাটার্জী৷ দীর্ঘ সময় ধরে অবরোধ চলার মধ্যে এলাকার হকার, দোকানদার, সাধারণ মানুষ অনেকেই তখন হয়ে উঠেছেন বিক্ষোভের শরিক৷ শ’য়ে শ’য়ে মুষ্টিবদ্ধ হাত উপরে উঠছে বলিষ্ঠ প্রতিবাদের বার্তা দিয়ে৷ অবরোধের পর মিছিল যখন মৌলালি মোড়ের দিকে এগিয়ে চলেছে, তাতে সামিল হলেন দলের কর্মী–সমর্থকদের বাইরেও অনেক মানুষ৷

ওইদিন সমস্ত জেলা সদর সহ অসংখ্য শহর, গঞ্জ, বাজারে একইভাবে এস ইউ সি আই (সি)বিক্ষোভের কর্মসূচি নিয়েছিল৷ সব বিক্ষোভেই সামিল হয়েছেন সাধারণ মানুষ৷

(গণদাবী : ৭২ বর্ষ ২৩ সংখ্যা)