Home / আন্দোলনের খবর / ক্যারিবিয়ান উপসাগরে সামরিক ঘাঁটি গাড়ছে রাশিয়াও

ক্যারিবিয়ান উপসাগরে সামরিক ঘাঁটি গাড়ছে রাশিয়াও

রাশিয়াও এবার ল্যাটিন আমেরিকায় সামরিক ঘাঁটি গাড়তে চলেছে৷ সম্প্রতি ক্যারিবিয়ান উপসাগরে ভেনেজুয়েলার একটি দ্বীপ ‘লা অর্চিলা’য় রাশিয়ার টিইউ–১৬০ বোমারু বিমান মোতায়েনের সিদ্ধান্তে সম্মতি জানিয়েছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো৷ প্রস্তুতি বহুদিনের৷ দশ বছর আগে রুশ বিশেষজ্ঞরা সেনাবাহিনীর অফিসারদের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে ২০০ কিলোমিটার উত্তর–পূর্বের এই দ্বীপটি পর্যবেক্ষণ করে গিয়েছিলেন৷

ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলির উপর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের শকুনি দৃষ্টি বহু দিনের৷ কয়েকমাস আগে ভেনেজুয়েলায় সৃষ্টি হওয়া অর্থনৈতিক সংকট ও দেশজোড়া বিক্ষোভের পিছনে আমেরিকার ভূমিকা প্রকাশ্যে এসে গিয়েছিল৷ প্রকাশ্যে এসে গিয়েছিল প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে হত্যা করার মার্কিনি ষড়যন্ত্রও৷ এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট যে প্রতিদ্বন্দ্বী মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে জমি ছেড়ে দিতে রাজি নয় বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের আরেক গুরুত্বপূর্ণ শক্তি রাশিয়া৷

সম্প্রতি রাশিয়া ভেনেজুয়েলার খনিজ তেল শিল্পে ৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ বিনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে৷ ভেনেজুয়েলায় ৬ লক্ষ টন গম পাঠানোর কথাও বলেছে তারা৷ এছাড়া নিজেদের সামরিক বাহিনী ও অস্ত্রভাণ্ডার শক্তিশালী করতে রাশিয়ার সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভেনেজুয়েলা৷ ভেনেজুয়েলার কৃষি, ওষুধ, যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো বিষয়গুলিতেও এই দুই দেশ যৌথ প্রকল্প গড়ে তোলার কথা ঘোষণা করেছে৷ এতে রাশিয়ার দেশীয় পুঁজিপতিদের মুনাফার স্বার্থ যেমন রক্ষিত হবে, তেমনই ভেনেজুয়েলার উপর অর্থনৈতিক ও সামরিক ভাবে প্রভাবও বিস্তার করতে পারবে তারা৷ এইভাবে ল্যাটিন আমেরিকা সম্পর্কে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে টক্কর দেওয়ার বন্দোবস্ত করে নিল রাশিয়া, যেটা তাদের প্রধান উদ্দেশ্য৷ ল্যাটিন আমেরিকার উপর গবেষণারত রুশ গবেষক এমিল দাবাগিয়ানের বক্তব্যে উঠে এসেছে এই  উদ্দেশ্যের কথা– ‘‘ভেনেজুয়েলার খনিজ তেল উত্তোলন শিল্প থেকে যেহেতু যথেষ্ট মুনাফা হয়, তাই রাশিয়া চায় না সেখানে সরকার পাল্টাক৷ তাই আমরা ভেনেজুয়েলা সরকারকে টিকে থাকতে মদত দিচ্ছি’’৷ রাশিয়ার এই সাহায্য স্বাভাবিক কারণেই সাগ্রহে বরণ করছে ভেনেজুয়েলা সরকার৷ তাদের এক বিশেষজ্ঞের কথায়, ‘‘মাদুরো সরকারকে অবৈধ বলে দাগিয়ে দিতে চাইছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র৷ যে কোনও সময় তাদের আগ্রাসনের সম্ভাবনা থেকে দেশকে রক্ষা করতে এই মুহূর্তে রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ মহড়া বা অন্যান্য সামরিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ ভেনেজুয়েলার পক্ষে খুব গুরুত্বপূর্ণ’’৷ অতএব সাম্রাজ্যবাদী শিবিরে প্রতিদ্বন্দ্বীর আবির্ভাব ঘটেছে, যারা আন্তর্জাতিক ভাগ পাওয়ার জন্য মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সাথে টক্করে নেমেছে৷ পরিণাম কী হবে ভবিষ্যতই বলবে৷

(গণদাবী : ৭১ বর্ষ ১৯ সংখ্যা)