Breaking News
Home / আন্দোলনের খবর / কুলতলিতে তৃণমূলের ব্যাপক সন্ত্রাস, গুলিবিদ্ধ ২ এসইউসিআই(সি) কর্মী

কুলতলিতে তৃণমূলের ব্যাপক সন্ত্রাস, গুলিবিদ্ধ ২ এসইউসিআই(সি) কর্মী

পঞ্চায়েত নির্বাচনের ঠিক দু’দিন আগে ১২ মে থেকে দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার কুলতলি থানার ব্যাপক অংশ জুড়ে ভয়াবহ সন্ত্রাস সৃষ্টি করে তৃণমূল কংগ্রেস৷ কুলতলি, জয়নগর দীর্ঘদিন ধরেই এস ইউ সি আই (সি)–এর শক্ত ঘাঁটি৷ বহু সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এইসব এলাকার গরিব খেটেখাওয়া মানুষের মধ্যে গড়ে উঠেছে এই দলের সংগঠন৷ এই সংগঠন ভাঙতে অতীতে সিপিএম শুধু দক্ষিণ চব্বিশ পরগণায় আমাদের দলের ১৬২ জন নেতা–কর্মীকে খুন করেছে৷ সিপিএম ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর তাদের দলের আশ্রিত বহু দুষ্কৃতী ভিড়েছে তৃণমূলের ছাতার তলায়৷ এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে জয়নগর এবং কুলতলির বহু এলাকাতেই এস ইউ সি আই (সি)–এর জয়ের সম্ভাবনা দেখে তৃণমূল প্রথম থেকেই সন্ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল৷ শেষ কয়েকদিনে যা চরমে ওঠে৷

১২ মে সকাল থেকেই কুলতলি থানার মেরিগঞ্জের কেওড়া মাটাল গ্রামে তৃণমূলের নেতা জাকির সেখের নেতৃত্বে প্রায় ২৫০ জনের সশস্ত্র বাহিনী ব্যাপক গুলিবৃষ্টি এবং বোমাবাজি শুরু করে৷ পুলিশ ক্যাম্পের প্রায় সামনেই বৃষ্টির মতো গুলি–বোমা পড়ার আওয়াজ শুনেও পুলিশ বেরোয়নি পর্যন্ত৷ এস ইউ সি আই (সি) দলের স্থানীয় নেতারা বারবার থানায় এবং পুলিশের উচ্চতর মহলে ফোন করলেও তারা আসেনি৷ হাট থেকে ফেরার পথে দুষ্কৃতীদের গুলিতে এস ইউ সি আই (সি) কর্মী মতিউর রহমান লস্কর এবং তাঁর ভাই আতিয়ার লস্কর গুরুতর আহত হন৷ শেষ পর্যন্ত এলাকার মহিলারা সাহসের সঙ্গে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালে তারা এলাকা থেকে সরে যায়৷ মতিউরের লিভার ফুঁড়ে গুলি বেরিয়ে যায়, ফুসফুসেও গুরুতর আঘাত লাগে৷ প্রথমে তাঁদের ক্যানিং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করতে হয়৷ ওই দিন রাতেই কার্ডিও থোরাসিক সার্জেন সহ অন্যান্য চিকিৎসকদের একটি দল তাঁর ফুসফুস এবং লিভারে অস্ত্রোপচার করেন৷ আতিউরের দেহে একাধিক জায়গায় গুলির জখম থাকায় তাঁকেও নার্সিং হোমে স্থানান্তরিত করতে হয়৷ ১৩ তারিখ এবং ভোটের দিন ১৪ তারিখেও বারবার বহিরাগত সশস্ত্র দুষ্কৃতী বাহিনী এলাকায় টহল দিয়ে মানুষেকে সন্ত্রস্ত্র করে রাখে৷

১৩ মে থেকে কুলতলির মৈপীঠ, ভুবনেশ্বরী, দেউলবাড়ি অঞ্চলে একই কায়দায় তৃণমূলের বহিরাগত দুষ্কৃতীরা ব্যাপক সন্ত্রাস সৃষ্টি করে৷ মৈপীঠে এস ইউ সি আই (সি) দলের কর্মীরা তাদের ধরে পুলিশের হাতে দিলেও পুলিশ কিছুটা দূরে নিয়ে গিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়৷ বারবার একই ঘটনা ঘটে৷ অথচ তার কিছুক্ষণ বাদে পুলিশ আক্রান্ত এস ইউ সি আই (সি) সমর্থকদের মধ্য থেকেই ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করে৷

(৭০ বর্ষ ৩৯ সংখ্যা ১৮ মে, ২০১৮)