Home / খবর / আসামের নাগরিকপঞ্জি জাতীয় নাগরিকপঞ্জি হয় কী করে?

আসামের নাগরিকপঞ্জি জাতীয় নাগরিকপঞ্জি হয় কী করে?

ফাইল চিত্র

এনআরসি বা জাতীয় নাগরিকপঞ্জি কি আদৌ কোনও জাতীয়পঞ্জি? এই পঞ্জি প্রকাশের পর শুধু অসম নয় সারা দেশে এক অস্থির বাতাবরণ সৃষ্টি হয়েছে৷ বিচ্ছিন্নতাবাদ ধীরে ধীরে মাথা চাডা দিচ্ছে৷ এই প্রক্রিয়া এক সময় সমগ্র জাতিকে এক অবিশ্বাসের চোরাবালিতে নিয়ে যাবে৷ বস্তুত সংকীর্ণ ভোট রাজনীতিই আজ এমন এক পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে৷

কীভাবে পঞ্জি নির্মিত হয়েছে? পঞ্জি নির্মাণে যাচাই করা উচিত কোনও ব্যক্তি ভারতের নাগরিক কি নাগরিক নন তা এবং এটা যেহেতু জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ, তাই সমস্ত রাজ্যের সম্মিলিত পঞ্জি নিয়ে জাতীয় স্তরে তা হওয়া উচিত৷ অসমের নাগরিক বলে তো কিছু হয় না এই ভাবনা যাদের আছে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের মোকাবিলা করতে হবে৷ ২০০৩ সালের নাগরিকত্ব আইনের ৪ ধারার ৬ (১) উপধারায় বলা হয়েছে, ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল নাগরিকদের জাতীয় রেজিস্টার বানাতে সারা দেশের জন্যই এক সাথে নোটিস জারি করবেন, কোনও একটি বিশেষ রাজ্যের বা সার্কেলের জন্য আলাদা করে নয়৷ সংকীর্ণ স্বার্থে কেন্দ্রীয় সরকারের মদতে এই আইনকে অমান্য করা হচ্ছে৷ ভারতবর্ষের মানুষ হিসাবে এক প্রদেশের মানুষ বিনা বাধায় আর এক প্রদেশে ব্যবসা, চাকরি, আত্মীয়তা–বন্ধুত্ব রক্ষা সহ বিভিন্ন কাজে যেতে পারে৷ এই পদক্ষেপের মাধ্যমে এখানেও অবিশ্বাসের বেড়া তৈরির কাজ শুরু হয়েছে৷ এই পঞ্জিকরণের কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে বিভিন্ন রাজ্যের হাতে কাজের বিভাজন থাকতে পারে৷ একটি রাজ্য বড় জোর দেখাতে পারে, সে রাজ্যের নথির ভিত্তিতে কোনও ব্যক্তি ভারতের নাগরিক কি না৷ এক রাজ্যের বিচারে একজন ভারতের নাগরিক না হয়ে অন্য রাজ্যের বিচারে তিনি নাগরিক হতেই পারেন৷ সেই কারণে অসমের তৈরি নাগরিকপঞ্জি কখনই জাতীয় নাগরিকপঞ্জি হতে পারে না এবং তা ওই রাজ্য প্রকাশও করতে পারে না৷ এখানে কেন্দ্রের কোনও বিরোধ তো নেই–ই বরং বিশেষ এক রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পূর্ণ মদতে বিজেপি পরিচালিত অসম রাজ্য সরকার তা প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে৷ কেন্দ্র আসলে চাইছে তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ যাতে ভোটে প্রতিফলিত না হয়৷ যখন বছরে ২ কোটি বেকার যুবককে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সাড়ে চার বছর পরেও কেন্দ্র তাদের প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হচ্ছে, তখন ভোটারদের সহজেই বোঝানো যাবে– অনুপ্রবেশকারীদের জন্য এ দেশের বেকাররা চাকরি পাচ্ছে না৷ এর মধ্য দিয়ে জাত–পাত–ধর্ম–বর্ণ-সাম্প্রদায়কে ভিত্তি করে দেশ জুডে ভ্রাতৃঘাতী সংঘর্ষ শুরু হবে, যা থেকে নির্বাচনী ফয়দা তোলার চেষ্টা করবে শাসক দল৷ বেকার সমস্যার মূল কারণ এবং তার প্রতিকারের পথ নিয়ে দেশবাসী মাথা ঘামাবে না৷

গৌরীশঙ্কর দাস, খড়গপুর

(৭১ বর্ষ ৭ সংখ্যা ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮)